সর্বশেষ :
চাকরি বাজার


বিএনপি সরকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেছেন, গত তিন মাসের সরকারি হিসাবমতে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি মানুষ খুনের শিকার হয়েছেন। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রকট দৃষ্টান্ত। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ কথা বলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে গত জুলাই মাসে খুনের মামলা হয়েছে ২৯৮টি। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৩২৬টি, মে মাসে ৩১০টি, এপ্রিলে ২৮৮টি ও মার্চে ৩১৭টি। এ হিসাব অনুযায়ী, গেল তিন মাসে খুনের নথিভুক্ত মামলা ৯৩৪টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলার সংখ্যা ৩১১। দিনের হিসাব করলে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি মানুষ খুন হয়েছে। এমন ভয়াবহ ও ব্যাপকমাত্রায় খুনের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করেছে ছয় মাসের বেশি হয়েছে। এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে তাদের নিয়ন্ত্রণ নাই, তা বলা যথার্থ হবে না। বরং আমাদের মনে হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তাঁর কাজে মনোযোগী নন। তিনি আইন-সংবিধান ইত্যাদি নিয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত।’ সরকারপ্রধানের উদ্দেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘এমন গণহারে মানুষ খুনের ঘটনা আপনার সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করবে। আর মানুষের আস্থা উঠে গেলে রাষ্ট্র চালানো যায় না। তাই অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।’ খুনিদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর ও যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব।

বিরোধী দলকে রাজপথে সহিংস না হয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা। এক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে সম্পাদকদের এই মতবিনিময় হয়। সভা শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্পাদকেরা পরামর্শ দিয়েছেন যে আপনারা বিরোধিতা করেন। গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করেন এবং জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথেও আপনারা থাকেন। কিন্তু আগের বিরোধী দলের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস কোনো পথে গিয়ে দেশটাকে আর অস্থিতিশীল করবেন না। এ ব্যাপারে কোনো কোনো সম্পাদক আমাদের আমিরে জামায়াতের সহযোগিতা কামনা করেছেন।’ মতবিনিময় সভায় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য নিউ নেশনের সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন, নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ভোরের ডাকের সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বাণিজ্য প্রতিদিনের সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরেছেন জামায়াতের আমির। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সৃষ্ট সংকট ও এর উত্তরণে সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। জামায়াত যে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, সভায় সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রথাগত বিরোধী দলের রাজনীতিতে বাজে সংস্কৃতির যে খারাপ ঐতিহ্য ছিল, সেটি ভেঙে ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ করার নীতির ওপর জামায়াত অটল আছে। সভায় সম্পাদকদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সম্পাদকদের পক্ষ থেকেও জামায়াতের এই নীতির প্রশংসা করা হয়েছে। সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা বিরোধী দলের সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা এবং বিরোধিতার জায়গায় বিরোধিতার মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সভায় জামায়াতের আমির সম্পাদকদের বলেছেন, সব অন্যায় ও জনবিরোধী কাজে বিরোধী দল সব সময় প্রতিবাদ জারি রাখবে। তবে সেই বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক এবং গঠনমূলক। এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াতের আমিরের প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়েছে বলেও জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল। গোলাম পরওয়ার বলেন, উন্নয়নকাজে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে, আইন প্রণয়নে, নানা নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইনসাফ না পাওয়ার বিষয়টি সভায় তুলে ধরেছেন জামায়াতের আমির। তিনি লেখনীর মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে সম্পাদকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, অতীতের বিরোধী দল বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে যেভাবে অস্থিতিশীল করেছে, সেসব ইতিহাসও স্মরণ করেছেন সম্পাদকেরা। এ ক্ষেত্রে সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মনে করেন তাঁরা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের মধ্যে যাঁরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাঁরা এর কারণ জানিয়ে তাঁদের ফোন করেছেন। জামায়াত মনে করে না গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁদের কোনো দূরত্ব আছে। তাঁরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন, আজকে সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক সে প্রচেষ্টারই একটি অংশ। আরেক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটের রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে ১১–দলীয় ঐক্য তিল পরিমাণ ছাড় দেবে না। সংসদে এটি নিষ্পত্তি হলে ভালো, নইলে তাঁরা রাজপথে থাকবেন। মতবিনিময় সভায় জামায়াতের পক্ষ থেকে দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
